এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং নগর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মশার বংশবিস্তার রোধে জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বাস্তবায়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও এই কর্মসূচিতে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করে।
অভিযানের শুরুতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের এলাকা পরিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে কোর্ট চত্বর, চৌরাস্তা এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নর্দমাগুলো পরিষ্কার করা হয়।
বিশেষ করে যেখানে পানি জমে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই স্থানগুলো শনাক্ত করে লার্ভা ধ্বংসের ব্যবস্থা নেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়।এই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পৌর প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেন। এ ছাড়া স্কাউট সদস্য, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিডি ক্লিনের মতো বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে এই পরিচ্ছন্নতা মিশনে যোগ দেন।
স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের এই অংশগ্রহণ শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারা কেবল রাস্তা পরিষ্কারই করেননি বরং সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে দেশব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে এখন থেকে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন এই অভিযান যেন কেবল অভিনয় বা ছবি তোলার জন্য না হয়। আন্তরিকতা ও নিয়মিত চেষ্টার মাধ্যমেই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেবল লোক দেখানো কর্মসূচি দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা। তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন বাড়ির আশেপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন নিয়মিত এমন তদারকি থাকলে শহরের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশেই কমে আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন