শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

নীলফামারীতে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

নীলফামারীতে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ

মেধাবীদের সংবর্ধনা প্রদান ছবি-দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম আয়োজিত ‘কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি-২০২৫’-এর সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দিনভর জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল এই চত্বর। নীলফামারী ও সৈয়দপুর জেলার কয়েকশ কৃতি শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকরা এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অংশ নেন।

কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম নীলফামারী শহর শাখার চেয়ারম্যানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফোরামের জেলা উপদেষ্টা সোহাগ। 

প্রতিটি শিক্ষার্থীর চোখে-মুখে ছিল সাফল্যের আনন্দ এবং আগামীর উজ্জ্বল স্বপ্নের প্রতিফলন। মেধাবীদের এই মিলনমেলাকে অনেকে ‘চাঁদের হাট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ফয়সাল। 

তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মেধা কেবল পরীক্ষার নম্বরপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না বরং উন্নত চরিত্র ও নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমের মাধ্যমেই মেধার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।প্রধান আলোচক হিসেবে পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা রাখেন কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী উপদেষ্টা হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম।

 তিনি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কিশোরকণ্ঠ সাময়িকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, এটি কেবল একটি সাধারণ সাময়িকী নয়, বরং একটি আদর্শ জীবন গড়ার পাঠশালা। আজকের এই মেধাবীরাই ভবিষ্যতে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে বর্ণাঢ্য সব পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারের তালিকায় ছিল সম্মাননা ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী, উন্নত মানের স্কুল ব্যাগ এবং নগদ অর্থ বৃত্তি। 

পুরস্কার পেয়ে খুশিতে আত্মহারা শিক্ষার্থীরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। নীলফামারী থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থী জানায়, অতিথিদের দিকনির্দেশনামূলক কথাগুলো তাকে ভবিষ্যতে বড় মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সৈয়দপুর থেকে আসা অন্য এক শিক্ষার্থী জানায়, এই স্বীকৃতি তাকে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে আসা অভিভাবকরাও কিশোরকণ্ঠের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক অভিভাবক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, সন্তানদের এমন মেধাভিত্তিক আয়োজনে যুক্ত করা বর্তমানে খুবই জরুরি। এতে শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল হওয়ার সুযোগ পায়। নৈতিকতা ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে এই ধরণের উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে তাঁরা মনে করেন।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নীলফামারীর এই আয়োজন প্রমাণ করেছে যে, সঠিক সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে মফস্বলের মেধাবীরাও বড় লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে পারে। একটি সুন্দর ও আদর্শিক প্রজন্মের প্রত্যাশায় কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের এই নিরন্তর পথচলা অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে জানানো হয়। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।