এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একটি পীরের আস্তানায় নৃশংস হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায় যে জনৈক ‘পীর’ শামীম আল জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগ তুলে একদল লোক তার আস্তানায় অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে এবং কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। শুধু প্রাণহানিই নয়, দুর্বৃত্তরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ভয়াবহ হামলায় মাজারে অবস্থানরত আরও বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।শনিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম তাদের গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিপুল সংখ্যক হামলার বিপরীতে মাত্র ১১টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং সেগুলোর কোনোটিতেই দৃশ্যমান কোনো আইনি অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।মাকামের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারা দেশের শীর্ষ ১২টি রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিতে হামলার শিকার মাজারগুলোর ক্ষতিপূরণ, সংস্কার এবং এই সংকটের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো দলই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা উল্লেখ করেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।বিজ্ঞপ্তিতে মাকাম আরও অভিযোগ করে যে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং প্রশাসনের দৃশ্যমান গাফিলতির কারণেই কুষ্টিয়ায় এমন নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সুরক্ষা প্রদানে ব্যর্থতার দায় এড়ানো যায় না বলে তারা মনে করেন। মাকাম এই অমানবিক ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন