শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বিঝু উৎসবের শুরু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১১:১৩ এএম

কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বিঝু উৎসবের শুরু

হ্রদের জলে ফুল ভাসানো

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বিঝু। পুরোনো বছরের সব গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরের সুখ ও সমৃদ্ধির আশায় রোববার ভোরে এই উৎসবের সূচনা করা হয়।

 সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বন থেকে সংগৃহীত রঙিন ফুল গঙ্গা দেবীর চরণে উৎসর্গ করে হ্রদের স্বচ্ছ জলে ভাসিয়ে দেন। এর মধ্য দিয়েই পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ষবরণ ও বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

সকালে রাঙামাটি শহরের কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে ভিড় জমায় শত শত মানুষ। সেখানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে তরুণ-তরুণী ও শিশুরা হ্রদের জলে ফুল ভাসান। 

এই নান্দনিক দৃশ্য উপভোগ করতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটকও যোগ দেন। কেরানি পাহাড় ছাড়াও শহরের গজনতলী, রাজবাড়ী ঘাটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। ফুল ভাসানো শেষে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা বাড়ি ফিরে গিয়ে নানা রঙের ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজান। এই দিনে বয়োবৃদ্ধদের পা ধুয়ে দিয়ে প্রণাম করা এবং তাদের নতুন কাপড় উপহার দেওয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।

উৎসবে অংশ নেওয়া রত্না ত্রিপুরা জানান, প্রতি বছর পুরোনো বছরের দুঃখ-বেদনা ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশায় তারা ফুল বিঝু পালন করেন। গঙ্গা দেবীর কাছে আশীর্বাদ চেয়ে হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর পর তারা নিজেদের ঘরবাড়ি সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের বিশ্বাস, এই আনুষ্ঠানিকতা পরিবার ও সমাজের জন্য শান্তি বয়ে আনবে। বিঝু উৎসবের প্রথম দিনটিকে মূলত ফুল বিঝু বলা হয়। এর পরের দিন অর্থাৎ সোমবার চৈত্রসংক্রান্তির দিনে পালন করা হবে মূল বিঝু। ওই দিন ঘরে ঘরে হরেক রকমের সবজি মিশিয়ে রান্না করা হবে ঐতিহ্যবাহী পাজন, যা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে।

উৎসবের শেষ দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ পালন করা হবে। এদিন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করবেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন নামে এই উৎসব পালন করে থাকে। চাকমারা একে বিঝু, ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু এবং অহমিয়ারা বিহু নামে এই উৎসব পালন করে। ভিন্ন ভিন্ন নাম ও রীতিনীতি থাকলেও পাহাড়ের এই বর্ষবরণ উৎসব আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত। মানুষের সম্প্রীতি ও মিলনের বাণী নিয়ে এই উৎসব জাতীয় জীবনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।