বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

বেরিয়ে এলো যুবদল নেতা রাকিব হত্যার রহস্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

বেরিয়ে এলো যুবদল নেতা রাকিব হত্যার রহস্য

রাকিব হত্যায় গ্রেপ্তার ২

রংপুরে মাদক ব্যবসার বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র‍্যাব। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামি মাদক কারবারি মমিন ও তার স্ত্রী সুইটি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‍্যাব-১৩ এর একটি দল তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

রংপুরে র‍্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মহিদুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। 

র‍্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, পূর্ব শত্রুতার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা নিয়ে ভিকটিম রাকিবের সঙ্গে আসামি মমিনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরে এবং একটি তাৎক্ষণিক ঘটনার সূত্র ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে র‍্যাব জানায়, ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ বুধবার আসামি মমিনের স্ত্রী সুইটি বেগম তার কন্যাকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে রাকিবের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এরপর সুইটি বেগম মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার স্বামী মমিনকে জানিয়ে তাকে চরমভাবে উত্তেজিত করেন। পরের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর দাসপাড়া মোড়ে রাকিবকে একা দেখতে পেয়ে মমিন ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে ছুরি এনে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রাকিব ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

নিহত রাকিব হাসান (২৩) রংপুর মহানগরীর কামাল কাছনা এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রংপুর শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মাদক কারবারি মমিন ও তার স্ত্রী সুইটি বেগমসহ মোট সাতজনকে এজাহারনামীয় আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।