বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপি নেতার মুক্তি দাবি

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে দাবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর থামিয়ে কারাবন্দি বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তি দাবি করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইলে একটি সরকারি কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধানমন্ত্রীর পথরোধের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ প্রাক-পাইলটিং প্রকল্প ও কৃষিমেলার উদ্বোধন করতে সড়কপথে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরটি টঙ্গী স্টেশন রোডের বিআরটি প্রকল্পের উড়াল সড়ক এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতি কমিয়ে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং নুরুল ইসলাম সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

নুরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি এই সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে কারাবন্দি আছেন। একটি মিথ্যা মামলায় তাঁকে জড়িয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে দাবি করে রনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর বাবাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরে জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টারকে প্রকাশ্য জনসভায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই আলোচিত হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সরকারকে অন্যতম প্রধান আসামি করা হয় এবং ওই বছরই তিনি গ্রেপ্তার হন। বিচারিক আদালতের রায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালত আপিলের প্রেক্ষিতে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের এই ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পুনরায় গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।