শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হঠাৎ দাবদাহ ব্রাহ্মণপাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু-বৃদ্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

হঠাৎ দাবদাহ ব্রাহ্মণপাড়ায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু-বৃদ্ধ

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় হঠাৎ করে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ ডায়রিয়াজনিত অসুস্থতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভিড় করছেন। 

আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে মানবদেহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। 

এর মধ্যে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহে কেবল ডায়রিয়াজনিত সমস্যার কারণে ৫৭ জন রোগী হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরেও পেট ব্যথা, বমি, জ্বর এবং সর্দি-কাশির মতো অন্যান্য মৌসুমি রোগ নিয়ে দেড় শতাধিক রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি ও বহির্বিভাগ থেকে ইতিমধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বালিনা এলাকা থেকে আসা সাত মাস বয়সী শিশু আয়ানকে নিয়ে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দুদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভোগার পর তাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। একইভাবে আড়াই বছর বয়সী শিশু সামিয়া এবং দেড় বছর বয়সী মুনতাহার অবস্থাও ছিল নাজুক। বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হওয়ায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে আনা হয়। 

সামিয়ার বাবা শামীম হোসেন জানান, প্রথমে ঘরে চিকিৎসা দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। এখন যথাযথ চিকিৎসায় সে কিছুটা সুস্থ। অন্যদিকে ৬২ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছকিনা বেগমকেও শুক্রবার বিকেলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তীব্র গরমের কারণে মানুষ দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। 

অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ পানি পান, বাসি বা খোলা খাবার গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার কারণেই ডায়রিয়া মহামারি আকারে দেখা দিচ্ছে। তিনি আক্রান্তদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আক্রান্ত রোগীকে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ডা. হাসিবুর রেজা আরও জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। 

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন যাতে কোনো রোগীকে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যেতে না হয়। গরমের এই সময়ে সবাইকে বিশুদ্ধ পানি পান করা, বাইরের খোলা খাবার পরিহার করা এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।