শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

পঞ্চগড়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন

বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন -ছবি-দিনাজপুর টিভি

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই বিশেষ মেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিফ। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধান অতিথি মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্ভাবনী ধারণা থেকে তৈরি করা প্রজেক্টগুলো ঘুরে দেখেন। এ সময় খুদে বিজ্ঞানীদের তৈরি বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রজেক্ট এবং উদ্ভাবনী প্রদর্শনীগুলো উপস্থিত দর্শনার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। 

শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের মডেল মেলায় উপস্থাপন করেন। স্টলগুলো পরিদর্শনের সময় প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান করেন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ জানান যে, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তাদের নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোকে হাতে-কলমে শিখতে সাহায্য করে।জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ৪৭তম এই বিজ্ঞান মেলার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সেরা উদ্ভাবকদের চিহ্নিত করা হবে, যারা পরবর্তীতে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে পঞ্চগড়কে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে। 

মেলাটি কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান বিনিময়ের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছেন যে, বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।