মে ৩১, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গত ১০ দিনে পৃথক পাঁচটি ভিন্ন ঘটনায় ছয়জনের মর্মান্তিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ করে আত্মহত্যা, নদীতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার এবং সড়ক দুর্ঘটনার মতো একের পর এক এসব ঘটনা ঘটায় পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র শোক ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ মে থেকে শুরু করে ২৯ মে রাতের মধ্যে এই মারাত্মক প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে স্থানীয় জনপ্রশাসন ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।গুলোর বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২১ মে উপজেলার ডাংগীরহাট ইউনিয়নের খলেয়ানন্দগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জয়া রানী পাল নামের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ডাংগীরহাট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।
এরপর ২৪ মে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামে মোখলেসুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক নিজের অটোরিকশাটি চার্জ থেকে খোলার সময় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত ২০ মে রাতে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত ইয়াছিন আলী নামের এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।একই দিনে উপজেলার একটি নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের সলিল সমাধি ঘটে।গত ২৯ মে উপজেলার হাড়িয়ারকুটি ইউনিয়নের কশিয়াবাড়ি এলাকার যমুনেশ্বরী নদীতে ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করতে গিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে মারা যায় মো. অহিদ ইসলাম ও মাসুদ নামের দুই কিশোর।
তারা দুজনেই ডাংগীরহাট ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর তেলীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিল এবং তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়ানেমে এসেছে। একই দিন রাতে উপজেলার হারিয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ফেরদৌসী বেগম নামের ছয় মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেন। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, স্বামীর অনবরত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে অতিষ্ঠ হয়েই তিনি এই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একই উপজেলায় এতগুলো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক আতঙ্ক ও মানসিক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সামাজিক অসচেতনতা, সড়ক অসতর্কতা এবং পারিবারিক কলহের কারণেই এই ধরনের দুর্ঘটনা ও আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারাগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঝুলন্ত ও আত্মহত্যার বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন