মে ৩১, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত ৫ দিনে ১০ জনের অস্বাভাবিক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মহানগরের আলাদা আলাদা স্থান থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো নিজ নিজ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
উদ্ধারকৃত মৃতদেহের মধ্যে পারিবারিক কলহ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আত্মহত্যা, নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং শিশু মৃত্যুর মতো বেদনাদায়ক ঘটনা রয়েছে।এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকা থেকে শ্রাবণী আক্তার পলি নামের এক গৃহবধূর এবং দক্ষিণ বাড্ডা থেকে মামুনুর রশিদ নামের এক চাকরিজীবীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
উভয় ঘটনাই পারিবারিক মনোমালিন্য ও কলহের জেরে আত্মহত্যার রূপ নিয়েছে বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এছাড়া পূর্ব রামপুরার একটি বাসা থেকে আব্দুল্লাহ নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যিনি আর্থিক সংকট ও বেকারত্বের কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবন শেষ করেছেন। অন্যদিকে ভাটারা সোলমাইদ এলাকায় পূর্ণিমা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে তাঁর স্বামী সাংসারিক বিরোধের জেরে শ্বাসরোধে হত্যা করে শিশু সন্তান নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
একই থানার আওতাধীন পৃথক স্থান থেকেও আরও কয়েকটি ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।ভাটারা শোলমাইল এলাকা থেকে মনির গাজী নামের এক ফুডপ্যান্ডা রাইডারের এবং কামরাঙ্গীরচর থেকে এনামুল ওরফে সুমন নামের এক রিকশাচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় আবাদি জমির পানিতে পড়ে অয়ন্তী নামের ২ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। অপরদিকে পান্থপথের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের উঁচু তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে অজ্ঞাতনামা এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনের ফুটপাত থেকে পুলিশ আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ডেমরার ডগাইর এলাকায় শাকিল হোসেন নামের এক কিশোর প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রতিটি লাশ আসার পর পরীক্ষা-পরীক্ষা করে মৃত্যুর বিষয়টি সরকারিভাবে আইনি নথিতে লিপিবদ্ধ করেন।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রতিটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু বা হত্যার নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং এই ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সংকট প্রতিরোধে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন