জুন ২, ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্প্রতি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি এবং কোরবানির পশু জবাই নিয়ে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের হিন্দুসমাজ। সনাতন ধর্মের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজ শুভেন্দুকে এ দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় বিষয়ে নাক না গলালোর এবং উগ্র বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁরা স্পষ্ট করে বলেছেন যে এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শতভাগ ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ থেকে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছেন।উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ বছরও অত্যন্ত আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রংপুর জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
স্থানীয় হিন্দু ধর্মের গরু খামারি এবং পুরোহিতেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে তাঁরা কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই মুসলমানদের সাথে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধনে যুক্ত রয়েছেন। এমনকি হিন্দু শাস্ত্রে কোথাও অন্য ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন বা দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো সংকীর্ণ উগ্রবাদী উসকানির কোনো নির্দেশনা দেওয়া নেই।বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য এবং উজ্জ্বলতম ঐতিহাসিক উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।
ব্যবসায়ী সংগঠন ও পূজা উদযাপন পরিষদের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে শুভেন্দুর এমন উগ্র কথাবার্তা মূলত তাঁর তীব্র ধর্মীয় অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ। বাংলাদেশের সমাজ ভারতের চেয়ে অনেক বেশি সুখে-শান্তিতে এবং সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করে সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। মহান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনেও এ দেশের সর্বস্তরের হিন্দুসমাজ দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন