জুন ২, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরের তবলছড়ি পোস্ট অফিস কলোনি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাজেদুল হক নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত নিথর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এই উপপরিদর্শকের বা এসআইয়ের লাশটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে বিবেচনা করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধারণা যে তীব্র পারিবারিক কলহের জেরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত এই পুলিশ কর্মকর্তা রাঙামাটি সদর পুলিশ ফাঁড়িতে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে ওই কলোনির বাসায় নিয়মিত বসবাস করতেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে সোমবার রাতে সাজেদুল হকের সাথে তাঁর স্ত্রী সাজেদা বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও মানসিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে তিনি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের শয়নকক্ষের দরজা ভেতর থেকে অত্যন্ত শক্ত করে বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পার হলেও কক্ষের ভেতর থেকে কোনো ধরনের সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় স্ত্রী চরম আতঙ্কিত হয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে দ্রুত অবহিত করেন খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর জানান যে পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহননের ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ বিভাগে গভীর শোকের छায়া নেমে এসেছে এবং কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন