জুন ১১, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
পঞ্চগড়ের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান `আদর্শ ক্লিনিকে` মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুটি নবজাতক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক এমন স্পর্শকাতর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসার মান, নিরাপত্তা ও চরম অবহেলা নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠায় অবশেষে কড়া অ্যাকশনে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান সংক্ষুব্ধ ফোর্স নিয়ে সরাসরি ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন এবং এর অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেন।একই সঙ্গে এই বিশেষ ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকে সব ধরনের সার্জারি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, `তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই দোষীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ক্লিনিকের সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম কঠোরভাবে বন্ধ থাকবে।` জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে আদর্শ ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির সময় মিতু আক্তার নামে এক প্রসূতির নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর মাত্র দুই দিন পর ১০ জুন সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের পাপড়ি আক্তার নামের আরেক নারী ক্লিনিকে ভর্তি হলে সেখানেও ভুল চিকিৎসায় প্রথমে নবজাতক এবং পরে প্রসূতি মা নিজেও মারা যান।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্জন বা ডাক্তার ছাড়াই কেবল দুইজন অনভিজ্ঞ নার্স দিয়ে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর কারণেই এই করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিতর্কিত এই আদর্শ ক্লিনিকের কোনো হালনাগাদ বৈধ লাইসেন্স নেই এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে আসছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের এই ঝটিকা অভিযানের পর ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন চিকিৎসায় অবহেলা ও অন্যায়ের বিচার চেয়ে থানায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন