জুন ২২, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ শরিফে থাকা সিলগালা করা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগের তালা খুলে জনসম্মুখে টাকা গণনার নির্দেশ দিয়েছেন সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে গত চার দিনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় স্থাপন করা নতুন দানবাক্সগুলো খুলে জমানো নগদ অর্থ গণনার কাজও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে।সোমবার জোহরের নামাজের পর মাজার প্রাঙ্গণে এই আকস্মিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক।
হঠাৎ করে দরগাহ শরিফে জেলা প্রশাসকের এই আকস্মিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও মাজারের ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল বাছিত মোল্লা জানান, সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মাজারে জোহরের নামাজ আদায় করেন। এরপর বেলা ২টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগের সিলগালা করা ডেগ ও নতুন দানবাক্সের তালাগুলো খোলা হয়।
সেখান থেকে সব টাকা বের করে মাজারেরই একটি নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রকাশ্যে গণনার কাজ শুরু করা হয়। এই বিশেষ অর্থ গণনা কার্যক্রমে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।মাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, দরগাহ শরিফের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথমবার সাধারণ মানুষের সামনে এভাবে প্রকাশ্যে দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগ খুলে টাকা গণনার কার্যক্রম শুরু হলো।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয়েছিল। সে সময় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে সেখানে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আনসার সদস্যও মোতায়েন করা হয়। তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মাজারের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বাধীন ব্যবস্থাপনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ দাবি করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন খাদেম ও আশেকানদের একটি বড় অংশ।
এই ঘটনার জেরে মাজার প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিক্ষোভ ও তীব্র সমালোচনার মুখে গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও মাজারের তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সুধীজনরা মনে করছেন।
টাকা গণনায় অংশ নেওয়া মাদ্রাসার শিক্ষকেরা জানান, এই চার দিনের জমানো টাকা এবং ডেগের ভেতরকার হিসাব থেকেই মূলত জানা যাবে যে যুগের পর যুগ ধরে এই পবিত্র মাজারে ভক্তদের দেওয়া দানের প্রকৃত পরিমাণ কত এবং এর ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হতো। এই গণনা শেষে পুরো স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রাপ্ত অর্থের মোট পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন