শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগের নেত্রী কারাগারে

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

জুন ২৯, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগের নেত্রী কারাগারে

ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমী এবং জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুব মহিলা লীগের এই দুই শীর্ষ নেত্রীকে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পূর্ণাঙ্গ জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। 

তিনি জানান, সরকার কর্তৃক দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও আসামিরা গোপনে সংগঠিত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। বিগত ২০২৫ সালের ২৬ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মিলন বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের নামে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

সদর থানার উপ-পরিদর্শক মানিক মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা এই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা এক নম্বর এবং তাঁর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী মৌসুমী দুই নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। এজাহারে মোট ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ থেকে ১২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, কাজীপাড়ার একটি খামারবাড়িতে কাজী মৌসুমীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে সরকার উৎখাত এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের গোপন পরিকল্পনা করছিলেন। অনুষ্ঠানটির ধারণকৃত ভিডিও ‍‍`আওয়ামী লীগ নিউজ বিডি‍‍` নামক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রচার করা হয়েছিল বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারোয়ার হোসেন আদালতের আদেশের পর গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং নিয়ম মেনেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শিগগিরই তাঁরা জামিন পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদত সম্রাট ও সাবেক পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুনসহ একাধিক স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।