আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
দেশের উত্তর অঞ্চলে সংঘটিত একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর চারিত্রিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষক দম্পতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের মুখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দায়িত্ব পরিবর্তন করে আরও উচ্চতর ও বিশেষায়িত সংস্থার হাতে ন্যস্ত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার আলোচিত মামলার তদন্তভার স্থানীয় থানা থেকে পরিবর্তন করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সোমবার রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম কোতোয়ালি থানার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও অধিকতর নিবিড় অনুসন্ধান এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট প্রস্তুত করার লক্ষ্যেই তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা শাখায় ন্যস্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী মামলার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আলামত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিনাত আলীর নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পূর্বের তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। তবে জবানবন্দিতে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের কিছু অমিল বা নতুন বিষয় যুক্ত থাকায় সার্বিক বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদক সেবনে বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা ডিবি পুলিশের নতুন তদন্তে উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন