আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম
দেশের বিভিন্ন স্থানে পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য দ্বন্দ্বের জেরে রাতের আঁধারে মানুষের নিজ বাসগৃহে ঢুকে নৃশংস হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে। সম্প্রতি মেহেরপুর জেলায় ঘটে যাওয়া এমনই এক মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত হামলায় এক কলেজছাত্রীর হাতের কবজি কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধান অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে এবং ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।
মেহেরপুরে তালাক দেওয়ার ক্ষোভ থেকে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ঢুকে এক কলেজছাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাসভবনে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে অভিযুক্ত সায়ন হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর পূর্বে বিয়ে হলেও পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জেরে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছিল।
সেই বিরোধের জেরে অভিযুক্ত যুবক রাতে জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তরুণীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং রামদার কোপে তার ডান হাতের কব্জির নিচ থেকে অংশ আলাদা করে ফেলে। মেয়ের চিৎকারে তার বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুন এগিয়ে এলে তাদেরকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় হামলাকারী।স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে বুধবার সকালে শহরের একটি আমবাগান থেকে অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেপ্তার করে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হলেই হামলার প্রকৃত মোটিভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন