বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম

শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তির বিচারের দাবিতে এবং ঘটনা ধামাচাপা ও আপস করার প্রতিবাদে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের রবীন্দ্র স্মরণী বাইপাস এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। 

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আপসের ঘটনায় জড়িত দাবি করে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়ার নাম উল্লেখ করেও স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর আগে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী অর্ধশতাধিক মানুষ ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের রবীন্দ্র স্মরণী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় সড়কের দুই ধারে শতাধিক যানবাহন ও পথচারী আটকে পড়েন। 

স্থানীয় ও বিক্ষুব্ধরা বলেন, গত কয়েক দিন আগে তাইয়াগছ এলাকায় স্থানীয় সানোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশী এক ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিন্তু থানায় মামলা না করে একটি কুচক্রী মহলসহ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া ভুক্তভোগী পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকার লোভ দেখিয়ে আপস করিয়ে দেন। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামের স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তের পরিবারের লোকজন স্থানীয় ও প্রতিবাদকারীদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন। 

পরে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো বিচার ও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান ও শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

তেঁতুলিয়ার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া বলেন, আমি গত পনেরো আগস্ট থেকে ঢাকাতে আছি। ছেলের পরীক্ষার জন্য এসেছি। তবে কারা বিচার-শালিস করল আমি জানি না। কী কারণে আমাকে জড়াচ্ছে তাও জানি না। এখানে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য আছে। তা না হলে কেন আমাকে জড়াবে সেখানে। ভুক্তভোগীর পরিবার নাকি থানায় মামলা করতে যায়নি। 

কিন্তু তবুও আমাকে জড়ানো হচ্ছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লাইছুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।