শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার

ডিমলায় প্রতিমা ভাঙচুরের খবরটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে জানাল পুলিশ

শহিদুল ইসলাম

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

ডিমলায় প্রতিমা ভাঙচুরের খবরটি ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে জানাল পুলিশ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

নীলফামারীর ডিমলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রতিমা ভাঙচুর ও ছাত্রশিবির কর্মীকে আটকের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের দাশপাড়া (জেলেপাড়া) এলাকায় একটি মন্দিরের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ফেসবুকে প্রচার চালায় যে প্রতিমা ভাঙতে গিয়ে শিবিরের এক কর্মী স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছেন। ডিমলা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রতিমা ভাঙচুরের মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

স্থানীয় একটি মন্দিরের জমি নিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাশপাড়া এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রায় ৩২টি পরিবারের বসবাস। সেখানকার একটি মন্দিরের জায়গা নিয়ে আদালতে উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বাঁশের মুড়া তুলতে যান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কয়েকজন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (৩০) জমিটি নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে কাজে বাধা দেন।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি সাদ্দামকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাদ্দামকে বাঁচাতে তাঁর বাবা এগিয়ে গেলে তাঁকেও আটকে রাখা হয়। পরে সাদ্দামের মা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে স্থানীয়দের ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডিমলা থানা পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সেখানে প্রতিমা ভাঙচুরের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ওই স্থানে নিয়মিত কোনো প্রতিমা ছিল না, কেবল মাঝেমধ্যে সেখানে ধর্মীয় পূজা-অর্চনা করা হতো। তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর স্থানীয়ভাবে বসে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে এই দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার দাশ (৪০) জানান, মন্দিরের আশপাশ পরিষ্কার ও বাঁশের গোড়া তোলার সময় সাদ্দাম তাঁদের বাধা দিলে বিবাদের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ডিমলা উপজেলা ছাত্রশিবির।

সংগঠনটির উপজেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সাদ্দাম হোসেন নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি ছাত্রশিবিরের কোনো স্তরের জনশক্তি নন। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।