অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্য বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের সরকারি নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রিত প্রতিটি খাদ্যপণ্যের মোড়কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে সংস্থাটি।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর অধীন এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মের আওতা অত্যন্ত ব্যাপক। ফুটপাতের পিঠা, পুলি ও পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে প্রচলিত রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবা প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং প্যাকেটজাত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে। এছাড়া খাদ্য সংরক্ষণাগার, হিমাগার এবং নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের জন্যও এই অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রবিধানমালায় নির্ধারিত প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবারের নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি কিংবা বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত লাইসেন্স ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। বৈধ নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্যাকেটে নিবন্ধন নম্বর যুক্ত থাকার ফলে উৎপাদক ও বাজারজাতকারী সংস্থাকে সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ভোক্তারা মোড়ক দেখেই প্রতিষ্ঠানের আইনি বৈধতা যাচাই করতে পারবেন এবং যেকোনো অনিয়ম বা অভিযোগের ক্ষেত্রে নম্বরটি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধন নম্বর থাকা মানেই পণ্যের মানের চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়; সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মানদণ্ড ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
শিশু ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্তদের জন্য তৈরি বিশেষায়িত খাবারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
শিশুদের ফর্মুলা দুধ, প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের বিশেষ পথ্য, স্বাস্থ্যসহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালের ক্ষেত্রে ব্যবসার প্রতিটি স্তরে প্রযোজ্য লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া জেনেটিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, রেডিয়েশন প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত খাবার, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড পণ্য এবং রোগ নিরাময়ের দাবি সংবলিত খাদ্যপণ্যের জন্য অতিরিক্ত অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।
আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়তন ও শ্রেণির ওপর ভিত্তি করে।
১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রাঙ্গণ লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের কারখানার নতুন লাইসেন্স ফি হবে ৬০ হাজার টাকা। আবেদনের আগে ব্যবসায়ীদের প্রবিধানমালার তফসিল-১০ এ উল্লেখিত ফি এবং প্রযোজ্য শর্তাবলি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয় থেকে এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রদত্ত নিবন্ধন ও লাইসেন্সের কার্যকারিতার মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা নির্ধারিত সময় শেষে যথাযথ নিয়মে নবায়ন করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন