অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
বাবার জানাজায় অংশ নিতে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন জোড়া হত্যা মামলার এক আসামি। আদালতের বিশেষ অনুমতিতে মুক্তি পাওয়া ওই আসামির নাম রবিউল ইসলাম। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া এলাকার আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারি ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি সাঘাটার বোনারপাড়ায় বাবার জানাজায় অংশ নেন।
রবিউলের বাবা শাহ আলমের মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে শেষবিদায় ও জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মানবিক বিবেচনায় রবিউলকে তিন থেকে চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর জেলা পুলিশ ও সাঘাটা থানা পুলিশের কড়া পাহারায় তাকে বাবার জানাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরপরই কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আবার গাইবান্ধা জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ২১ জুন।
সেদিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারি ও জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন স্থানীয় বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এজাহার অনুযায়ী, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে।
সালাউদ্দিনকে বাঁচাতে সাইফুল্লাহ এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করে নিয়ে যায়। বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে ফেলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। হামলার পরপরই হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফুল্লাহ বারি।
অন্য ভুক্তভোগী সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে টানা ৪৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৮ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনিও।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গত ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলার চার নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রবিউল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন