অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের কাটাবাড়ি এলাকায় সরকারি বাগানের গাছ কাটার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি জাহিরুল ইসলাম প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা স্থানীয় একটি কবরস্থান রক্ষায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
নদীর তীর সমান ও ঢালু করার সময় ঠিকাদারের লোকজন মাটি কাটার যন্ত্র ভেকু দিয়ে গাছগুলো উপড়ে ফেলে। পরবর্তীকালে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তার পরামর্শে নিরাপত্তার স্বার্থে উপড়ে পড়া সেই গাছগুলো তাঁর বাড়ির সামনে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছিল। গাছ কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করলেন নেতা।
সম্প্রতি কাটাবাড়ি এলাকায় বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে ২১ টুকরো ইউক্যালিপটাস গাছ জব্দ করেন। জব্দ করা এই কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকার বেশি বলে জানিয়েছিল বন বিভাগ। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁতী দল নেতা জাহিরুল ইসলামকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সাংবাদিকদের প্রকৃত ঘটনা সরজমিনে তদন্ত করে সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।
জাহিরুল ইসলামের দেওয়া লিখিত প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, করতোয়া নদীভাঙনের ফলে কাটাবাড়ির একটি পুরাতন কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছিল। ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনাটি টিকিয়ে রাখতে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় প্রায় ৬০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নদীতীরের মাটি কাটার কাজ করার সময় কবরস্থানসংলগ্ন এলাকার কিছু গাছ আলগা হয়ে উপড়ে পড়ে বলে দাবি জাহিরুলের। তিনি জানান, ওই সময় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার নির্দেশনাতেই গাছগুলো তাঁর উঠানের সামনে সুরক্ষার জন্য মজুত রাখা হয়। পরবর্তীতে বিট কর্মকর্তা ওই গাছের টুকরোগুলো কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রলিতে তোলার ব্যবস্থা করেন। ট্রলিটি রওনা দেওয়ার সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেটির পথ আটকে দেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটিকে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার অপবাদ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, এই গাছ উপড়ে ফেলা বা কাটার সাথে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং কবরস্থান ও স্থানীয় বসতি রক্ষায় নদীভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগেই তিনি নিবেদিত ছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বন বিভাগকে আগেই অবহিত রাখা হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বন বিভাগের কাটাবাড়ি বাগানের প্রহরার দায়িত্বে থাকা এরশাদ হোসেন বলেন, জাহিরুল প্রধান কোনোভাবেই গাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন, স্থানীয় কিছু লোক নিজেদের স্বার্থে তাঁকে অযথা ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
জাহিরুল প্রধান সাংবাদিকদের সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করার পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারক কর্মকর্তা, বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদার ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর আগে বন বিভাগের জব্দ অভিযানের পর বিট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন