শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

বালাইনাশক প্রয়োগে তিন বিঘা জমির করলা নষ্টের অভিযোগ

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

বালাইনাশক প্রয়োগে তিন বিঘা জমির করলা নষ্টের অভিযোগ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় একটি কোম্পানির জৈব বালাইনাশক স্প্রে করার পর প্রায় তিন বিঘা জমির করলা খেত ঝলসে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারদেনা করে আবাদ করা খেতের সব গাছ মরে যাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী চাষি।

উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষক ইসলাম উদ্দিন ঋণের টাকায় এই করলার আবাদ করেছিলেন। খেতজুড়ে গাছগুলো বেশ সতেজ ছিল এবং ফলনও ভালো হয়েছিল। তিনি ইতিমধ্যে দুই দফায় খেতের করলা তুলে বাজারে বিক্রিও করেন। কিন্তু পোকা ও রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে বালাইনাশক ছিটানোর পরই পুরো খেতের সবুজ ডগা বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যায়। খেতজুড়ে ফলগুলো বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ছে।

ভুক্তভোগী চাষির ভাষ্য অনুযায়ী, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে তিনি পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের এম পেড নামের একটি জৈব বালাইনাশকের এক হাজার মিলিলিটারের বোতল এক হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কেনেন। গত ১৮ অক্টোবর তিনি নির্দেশনা মেনে তা জমিতে স্প্রে করেন। এর পরদিন থেকেই প্রতিটি গাছের পাতা ও ডগা বিবর্ণ হতে শুরু করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার তিনি জমিতে গিয়ে দেখতে পান তাঁর প্রায় তিন বিঘা খেতের পুরো করলা বাগান ঝলসে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এতে সব ফলন নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, এই বালাইনাশক ব্যবহারের পরেই তাঁর পুরো খেত নষ্ট হয়ে গেছে এবং এখানে আর নতুন করে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, জমি তৈরিসহ পুরো আবাদে তাঁর দেড় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ধারদেনা করে এই চাষ করায় এখন কীভাবে ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। ঘটনার পর বালাইনাশক কোম্পানির মাঠ প্রতিনিধি আর এলাকায় আসছেন না এবং বিক্রেতাও কোনো দায় নিচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। ইসলাম উদ্দিন এই ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

স্থানীয় অন্য কৃষকেরাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষক ফারুক হোসেন জানান, ওই এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের করলা বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু বালাইনাশক ব্যবহারের পরেই তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন অপূরণীয় ক্ষতির দায় কে নেবে। তিনি অবিলম্বে এমন বালাইনাশকের মান তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। আরেক কৃষক আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, এলাকায় বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাধারণ কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওষুধ কিনতে উৎসাহিত করেন, কিন্তু জমিতে ক্ষয়ক্ষতি হলে পরে আর তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না।

অভিযোগের বিষয়ে কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু জানান, একই লটের বালাইনাশক এলাকার আরও অনেক কৃষক নিয়েছেন এবং তাঁদের ফসলে কোনো ক্ষতি হয়নি। তাঁর দাবি, কৃষক হয়তো সঠিক নিয়ম ও মাত্রা মেনে ওষুধ স্প্রে করতে পারেননি।

অন্যদিকে বালাইনাশক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের আটোয়ারী উপজেলার সহকারী বিপণন কর্মকর্তা সবুজ আলী বলেন, ওই খেতের ফসল এভাবে নষ্ট হওয়ার কারণ তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি ধারণা করছেন, কৃষক হয়তো ওই বালাইনাশকের সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান মিশিয়ে জমিতে প্রয়োগ করেছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।