অক্টোবর ৭, ২০২৫, ১১:৪৮ এএম
জয়পুরহাটে হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত তিন দিনে জেলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধসহ ৩২২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার ১৩৮ জন, রবিবার ১০১ জন এবং সোমবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৮৩ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
আক্রান্তদের বেশিরভাগই জয়পুরহাট পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, বিশেষ করে ধানমন্ডি মহল্লার।আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, পৌরসভার সরবরাহ করা দূষিত পানি পান করার কারণেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল প্রসাদ আগরওয়ালা বলেন, “আমাদের এলাকার অধিকাংশ রোগীই পৌরসভার পানি পান করে অসুস্থ হয়েছেন।”
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ জানান, আক্রান্ত এলাকা থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়ার ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং রিপোর্টে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “পানির কারণে ডায়রিয়া হলে পুরো পৌরসভার মানুষই আক্রান্ত হতো।”
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় অস্বাস্থ্যকর ও খোলা খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, “গত তিন দিন রোগীর চাপ প্রচণ্ড বেশি ছিল, তবে এখন কিছুটা কমতে শুরু করেছে। আমাদের ধারণা, পূজার মেলার খোলা খাবার থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত।” কারণ যা-ই হোক, হঠাৎ করে রোগীর চাপ বৃদ্ধিতে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন