নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৩:৪০ পিএম
শহরাঞ্চলের পাশাপাশি বর্তমানে গ্রামগঞ্জেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে, যেখানে দিনাজপুর জেলার হিলি অঞ্চলের প্রায় একাধিক লোক উন্নত চিকিৎসার সুবিধা না পেয়েও নিয়মিত শরীর চর্চা আর খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই এই রোগ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। প্রতিদিন ভোর হতেই গ্রামাঞ্চলের রাস্তায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সকালের শরীর চর্চায় অংশ নিতে দেখা যায়, যা কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকার এক সচেতনতামূলক অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত।
আক্রান্ত রোগীরা জানান, তারা আগে ধারণা করতেন মাঠেঘাটে কাজ করা সাধারণ মানুষের ডায়াবেটিস হবে না, এটি মূলত ধনীদের রোগ, কিন্তু রোগ ধরা পড়ার পর তারা ঘন ঘন ক্ষুধা, অতিরিক্ত পিপাসা ও প্রস্রাবের মতো উপসর্গগুলো অনুভব করেন এবং এমনকি কারো কারো সুগার মাত্রা ২৮ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল, যা নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা এবং সকালের ব্যায়ামই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি, যার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভাস ও সচেতন জীবনযাপন পারে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে; কেননা ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য না হলেও এটি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি হরমোনজনিত রোগ, যা মূলত ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা অক্ষমতাজনিত কারণে হয়ে থাকে।
শরীর চর্চার অভাব, স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি, বংশগত কারণ অথবা অপরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় থাকলে ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়, তাই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে পরিমিত ও সুষম খাবার খেয়ে এবং প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করে রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপের মাধ্যমে সুস্থ ও সুখী জীবনযাপন করা সম্ভব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৩৭ মিলিয়ন, যা এই হারে বাড়তে থাকলে ২০৩০ সালে ৬৪৩ মিলিয়ন এবং ২০৪৫ সালে তা ৭৮৩ মিলিয়নে ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন