ডিসেম্বর ৬, ২০২৫, ০৫:৩৪ পিএম
দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় এবার শীতের আগমন উপলক্ষে খেজুর রস সংগ্রহ এবং খাঁটি গুড় তৈরির উৎসব বেশ জমে উঠেছে। উপজেলার ১ নম্বর নাফানগর ইউনিয়নের সুলতানপুর বাজার থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে সাদামহল রোড, ডা. সরল চন্দ্র রায়ের বাগান এবং রিয়াজুল মোড়ের খেজুর বাগানে গাছিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
এই প্রাকৃতিক দৃশ্য শীতের এক প্রাণবন্ত উৎসবে রূপ নিয়েছে।প্রতিদিন ভোরেই গাছিরা রস সংগ্রহে নেমে পড়েন। টাটকা খেজুর রসের স্বাদ নিতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।
ঝুলন্ত মাটির হাঁড়ি, রস নামানোর টুপটাপ শব্দ এবং ভোরের আলো—সব মিলিয়ে পুরো এলাকাকে এক ভিন্ন আমেজ দিয়েছে।
ধনতলা শাহপাড়ার শিক্ষিকা রুমি আক্তার জানান, তিনি শুনেছিলেন এখানে কাঁচা খেজুরের রস পাওয়া যায়, তাই ভাই, বোন ও বোনজামাই সবাই মিলে এসেছেন। জীবনে প্রথমবার রস খেয়ে তিনি বলেন, "এমন স্বাদ আগে কখনো পাইনি।" রহমত আলীও বলেন, ছোটবেলায় রসের গল্প শুনলেও কখনো খাননি, আজ এসে বুঝলেন শীত মানেই খেজুর রস। সেতাবগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে আসা তরুণ মিরাজুল ইসলামের কাছে গাছ থেকে নামানো টাটকা রস পান করা এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
উলামা অর্গানিক ফুড-এর কারিগর তোফাজ্জল হোসেন জানান, তারা ভোরে রস নামিয়ে লিটারপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি করেন। অবশিষ্ট রস দিয়ে তারা কোনো ধরনের ক্ষতিকারক রং বা কেমিক্যাল মেশান না। ভেজালমুক্ত উপায়ে প্রায় তিন ঘণ্টা জ্বাল দিয়ে ঝোল, পাটালি ও চকলেট—এই তিন ধরনের খাঁটি গুড় তৈরি করেন। গুড়ের মূল্য হলো—ঝোল/লাল গুড় প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা, পাটালি/টিকা গুড় ৪০০ টাকা এবং চকলেট গুড় ৬৫০ টাকা। উলামা অর্গানিক ফুডের মালিক আনোয়ার হুসাইন বলেন, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই গুড় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
আগে ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক পদ্ধতিতে গুড় বানালেও এবার বোচাগঞ্জে প্রথমবার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা হোম ডেলিভারি ও অনলাইনেও সরবরাহ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, তাদের গুড় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভেজালমুক্ত। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে রস ও গুড়ের প্রতি আগ্রহও বেড়ে চলেছে, আর এই ভেজালমুক্ত রস ও গুড় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে শীতকে আরও রঙিন করে তুলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন