মো আরিফ ইসলাম
জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা। টানা ১০ দিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন যখন স্থবির, ঠিক তখনই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন।
তীব্র কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে প্রায় প্রতিদিনই গভীর রাতে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও শহরের অলিগলি ঘুরে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।
খোলা আকাশের নিচে বা জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক অসহায় মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন এই কর্মকর্তা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় যখন দৃষ্টিসীমা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখন ইউএনও সুমা খাতুন খুঁজে খুঁজে বের করেন প্রকৃত সম্বলহীন মানুষগুলোকে। শীত নিবারণের পর্যাপ্ত বস্ত্রহীন এসব মানুষের জন্য একটি কম্বলই এখন বেঁচে থাকার অবলম্বন। ইউএনও’র এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা। তারা বলেন, "এত রাতে প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা আমাদের মতো মানুষের খবর নেবেন, এটা কল্পনাও করিনি।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা। এই তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন পর্যাপ্ত বস্ত্রের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের এমন সরাসরি উপস্থিতি অসহায় মানুষের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে। একইসাথে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।