জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
আমন ধানের ভরা মৌসুমেও উত্তরের শস্যভাণ্ডার দিনাজপুরে চালের বাজারে আগুন লেগেছে। মজুত ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে চালের উদ্বৃত্ত এই জেলায় বসবাসকারী সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিনাজপুর শহরের প্রধান চালের বাজার ‘বাহাদুর বাজার’ ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম ২ থেকে ৪ টাকা এবং সুগন্ধি আতপ জিরাকাঠারীর দাম কেজিতে ১২ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রি-২৮ চাল ৫৮-৬২ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা এবং নাজির শাইল ৭৮-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ জাতের সিদ্ধ কাঠারী ১৪০ টাকা এবং জিরা কাঠারী ১১৫-১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চালের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে বড় অটো রাইস মিল ও করপোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খুচরা বিক্রেতা প্রদ্যুত কুমার রায় বলেন, "আড়তদারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর।" অন্যদিকে, মিলার-চালকল মালিক গ্রুপের নেতা আজিজুল ইকবাল চৌধুরী দাবি করেছেন, অনেক লাইসেন্সবিহীন বড় ব্যবসায়ী ধান ও চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, জেলায় চালের বার্ষিক চাহিদা ৭ লাখ মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত ৯ লাখ মেট্রিক টন চাল সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন