মার্চ ৩১, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং কালোবাজারি রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে উপজেলার সবকটি ফিলিং স্টেশনে নতুন নির্দেশনানুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে কোনো পাম্পে তেল নিতে হলে গ্রাহককে অবশ্যই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এর মধ্যে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই তথ্যাদি যাচাইয়ের পর কেবল বৈধ গ্রাহকদের কাছেই জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। কাগজপত্রের অনুলিপি বা প্রমাণ ছাড়া কোনোভাবেই তেল সংগ্রহ করা যাবে না।
নতুন এই নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা। বীরগঞ্জ উপজেলার বাইরের কোনো গাড়িকে এই উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র বীরগঞ্জ উপজেলার নিবন্ধিত বা নিয়মিত চলাচলকারী স্থানীয় যানবাহনগুলোই এই সুবিধা পাবে। এছাড়া একই গাড়ি বা ব্যক্তি যাতে একাধিকবার তেল নিয়ে মজুদ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিয়ম ভেঙে বারবার তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে তাকে জরিমানার আওতায় আনা হবে।
তেল সরবরাহের এই বিশেষ কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরাও সেখানে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা রক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা প্রশাসন মনে করছে, এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে জ্বালানি তেলের অপব্যবহার ও কালোবাজারি বন্ধ হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই ন্যায্যমূল্যে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন। অবৈধভাবে তেল মজুদ বা কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখতেই মূলত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকে পাম্পগুলোতে আগের তুলনায় অনেকটা সুশৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন