এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:২৮ পিএম
মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুরের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার প্রত্যয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ অ্যাথলেট সাখাওয়াত হোসেন সাকিব। ঢাকা থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ দৌড়ে অতিক্রম করার এই দুঃসাহসিক অভিযানে ইতোমধ্যেই অভাবনীয় এক নজির গড়েছেন তিনি।
গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সাকিবের এই বিশেষ দৌড়যাত্রা শুরু হয়। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল দিনাজপুরের জিরো পয়েন্টে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি নিয়মিতভাবে পথ চলছেন। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি কেবল দৌড়েই ক্ষান্ত হননি, বরং জলপথের বাধাকেও জয় করেছেন বীরত্বের সাথে।
অভিযানের তৃতীয় দিনে ৪ এপ্রিল এক অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন সাকিব। এদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি যমুনা নদীতে সাঁতার শুরু করেন। উত্তাল ঢেউয়ের সাথে প্রায় তিন ঘণ্টা নিরন্তর লড়াই চালিয়ে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে তিনি সফলভাবে নদী পার হতে সক্ষম হন।
সাকিবের এই অদম্য সাহসিকতা যমুনা তীরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।সাকিবের এই বিশেষ অভিযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘মাদককে না বলুন’। তরুণ প্রজন্মের মাঝে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দিনাজপুরের জগৎবিখ্যাত লিচু এবং ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরের গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরাই তাঁর এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ব্যক্তিগত এই চ্যালেঞ্জকে তিনি সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে চাচ্ছেন।
এই চ্যালেঞ্জিং ও ব্যয়বহুল অভিযানে সাকিবের পাশে দাঁড়িয়েছে দিনাজপুরের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পাটোয়ারী বিজনেস হাউস। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন এই অভিযানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাকিবের এই যাত্রাকে তিনি তরুণদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সহিদুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, সাকিবের মতো মেধাবী ও সাহসী তরুণরা আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং গর্বের প্রতীক। এ ধরনের ইতিবাচক ও সমাজসচেতনতামূলক উদ্যোগে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্বের অংশ। তিনি মনে করেন, এমন সাহসী পদক্ষেপ তরুণদের মনোবল বাড়িয়ে দেয় এবং সমাজকে একটি সুন্দর ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
সাকিবের এই সাহসিকতাপূর্ণ যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাকিবের ছবি ও যমুনা নদী জয়ের খবরটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার সফলতা কামনা করছেন এবং একে মাদকবিরোধী আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। সাকিব এখন তাঁর লক্ষ্যের বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন