এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
দিনাজপুরের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের আগ্রহী ও সম্ভাবনাময় মেয়ে শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ফ্রি আর্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দিনাজপুর শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী চিত্রকলা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ড্রইং স্কুল এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের যাত্রা শুরু করে। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম হাবিবুল হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এম হাবিবুল হাসান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক শিল্পচর্চা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ড্রইং স্কুল দিনাজপুর একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মেয়ে শিশুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক নাজমুস সাকেব রানার এই মানবিক চিন্তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
ড্রইং স্কুল দিনাজপুরের নির্বাহী পরিচালক নাজমুস সাকেব রানা জানান, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মধ্যে কেউ ভ্যানচালক বা নির্মাণ শ্রমিকের মেয়ে, আবার কেউ অটোচালক বা কারখানা শ্রমিকের সন্তান। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এই শিশুদের চোখে বড় হওয়ার যে স্বপ্ন এবং শেখার আগ্রহ রয়েছে, সেটিই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। এই শিশুদের উজ্জ্বল মুখের মধ্যেই একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ড্রইং স্কুল দিনাজপুরের মাধ্যমে শিল্পচর্চাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত মেয়ে শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর আগে তিনটি ব্যাচে মোট ৬৭ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। তারা বর্তমানে ড্রইং স্কুলসহ দিনাজপুরের বিভিন্ন নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আজ চতুর্থ ব্যাচে আরও ৩২ জন নতুন শিক্ষার্থী নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলো।দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করার পর এই ৩২ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে এই শিশুদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক, এডিপিইও মো. সাইফুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম এবং ড. সৈয়দ রেদোয়ান টিটোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন মানবিক ও কারিগরি উদ্যোগ জেলার পিছিয়ে পড়া শিশুদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন