বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

চিরিরবন্দরে এনজিওকর্মী গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

এনামুল মবিন(সবুজ)

এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০২:১১ পিএম

চিরিরবন্দরে এনজিওকর্মী গণধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এক এনজিওকর্মীকে গণধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। র‍্যাব-১৩ দিনাজপুর এবং র‍্যাব-০৪ সাভার ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম মো. ফরিদুল ইসলাম ওরফে হুলু (২৫)। তিনি এই বর্বরোচিত মামলার অন্যতম অভিযুক্ত।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রানীরবন্দর শাখার একজন কর্মী। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি গ্রাহকদের পলিসি সংগ্রহের কাজ করতেন। 

মামলার প্রধান আসামি মো. আতিকুল ইসলাম (২৪) কয়েকজন ব্যক্তি ইন্স্যুরেন্স পলিসি করতে আগ্রহী বলে ভিকটিমকে মোবাইল ফোনে জানান। গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একাধিকবার ফোন করে অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কোম্পানীর মোড় এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই ওত পেতে থাকা আসামিরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় অভিযুক্তদের একজন ধর্ষণের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখে। পাশবিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ভিকটিম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৩০ জানুয়ারি চিরিরবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু হয়। নৃশংস এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে আসামিদের ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরাবো তৈয়বপুর সড়কে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ফরিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ধৃত আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও নিগৃহীতার পরিবার এই গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, মামলার অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।