এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
দিনাজপুরের বিরলে এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে তার স্থায়ী অপসারণ ও চাকরিচ্যুতির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সচেতন অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় থাকলেও তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে এদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছাত্রীরা ও তাদের অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
ছাত্রশক্তির জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিরল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল বাসেত এবং এনসিপি বিরল উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ।মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিমরান মোহাম্মদ সায়েক-এর নিকট একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ইকরামুল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ছাত্রীদের ভালো ফলাফল এবং বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করে আসছেন।
এমনকি অতীতে এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকাকালীন ধরা পড়ে তিনি তাকে বিয়ে করেন এবং কিছুদিন পর আবার তালাক দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বে এই ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। তবে পরবর্তীতে তিনি পরিস্থিতি ম্যানেজ করে আবারও বিদ্যালয়ে পুনর্বহাল হন। সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিনি আবারও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন।
এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দ্বিতীয়বারের মতো সাময়িক বরখাস্ত করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই শিক্ষক সমাজে এক কলঙ্ক এবং মানবতার শত্রু। তার মতো একজন ব্যক্তি শিক্ষকতা পেশায় থাকলে ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে।বিক্ষোভকারীরা তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষককে শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয় বরং তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে বিদ্যালয় থেকে অপসারণ করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি যেন এলাকার কোনো কোচিং সেন্টারে পাঠদান করতে না পারেন, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযুক্তের এমন আচরণে বিরল এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ছাত্রীদের সুরক্ষায় তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন