এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নবরূপীর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে নবরূপীর নিজস্ব মঞ্চে ড্রইং স্কুলের বিশেষ সহযোগিতায় প্রতি বছরের মতো এবারও এই সৃজনশীল উৎসবের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খুদে চিত্রশিল্পীরা তাদের রং-তুলি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হাজির হয়।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে নবরূপীর সভাপতি আব্দুস সামাদ উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হলে আমাদের সন্তানদের চিত্রকলার মতো সৃজনশীল কাজে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
শিশুদের এখন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় দীক্ষিত করতে চিত্রাঙ্কনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। সভাপতির উদ্বোধনের পর পরই শিশুরা তাদের ক্যানভাসে বৈশাখী মেলা, গ্রামীণ প্রকৃতি ও নববর্ষের নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তুলতে শুরু করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে নবরূপীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান নিউ বলেন নতুন প্রজন্মকে যদি সঠিক সাংস্কৃতিক আবহে গড়ে তোলা যায় তবেই তারা প্রকৃত বাঙালি সংস্কৃতিকে হৃদয়ে লালন ও ধারণ করতে পারবে। ড্রইং স্কুলের নির্বাহী পরিচালক নাজমুস সাকেব রানা তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে উল্লেখ করেন শিশুদের শিল্পচর্চার মাধ্যমেই কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে সমাজ ও মনে জাগ্রত রাখা সম্ভব। তাই শৈশব থেকেই তাদের চিত্রকলার মতো সুকুমার বৃত্তির সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূচনামূলক বক্তব্যে নবরূপীর প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উপ-কমিটির আহ্বায়ক রাকিব হাসান রানা জানান সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারে নবরূপী বদ্ধপরিকর। শিশুদের মেধাবিকাশ ও রঙের সাথে সখ্য গড়ে তুলতে প্রতি বছর এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কেবিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেগম মুসফেকা তাসনিম উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহ প্রদান করেন।
এবারের প্রতিযোগিতায় দিনাজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক খুদে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিযোগীদের নিপুণ তুলির আঁচড়ে নবরূপীর আঙিনা এক টুকরো গ্রামবাংলায় পরিণত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন আগামী ১লা বৈশাখ নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানের দিন এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে নবরূপীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন যারা এই ধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন। মূলত সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যেই নবরূপী এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন