শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

নবাবগঞ্জে ১৬ বছর পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

আতিউর রহমান

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

নবাবগঞ্জে ১৬ বছর পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

নবাবগঞ্জে বৃত্তি পরীক্ষা শুরু -ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দীর্ঘ ১৬ বছর পর পুনরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর এই পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পরিচালনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই পরীক্ষার সময়সূচি অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিস্তারিত নির্দেশনাসহ পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধা যাচাইয়ের এই বিশেষ পদ্ধতিটি দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ উপজেলায় এবারের বৃত্তি পরীক্ষা দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো হলো নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নবাবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুমা আক্তার পরীক্ষার উপস্থিতির পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৪২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৩ জন অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতদের মধ্যে ৩৭ জন বালক এবং ৬৬ জন বালিকা।অন্যদিকে, নবাবগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৫৯২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪৪ জন অনুপস্থিত ছিল। এই কেন্দ্রে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকায় ৬১ জন বালক এবং ৮৩ জন বালিকা রয়েছে। 

দুটি কেন্দ্র মিলিয়ে প্রথম দিনের পরীক্ষায় মোট ২৪৭ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি।নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, উপজেলার দুটি কেন্দ্রেই অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

পরীক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রাখছে। ১৬ বছর পর শুরু হওয়া এই মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করবে বলে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।