এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেক আইডি ব্যবহার করে গোপন ছবি ও ভিডিও ফাঁস এবং অপপ্রচারের অভিযোগে শাহিন আলম নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শাহিন ‘হক প্রকাশ’ নামের একটি আলোচিত ফেসবুক আইডির সহযোগী বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার শাহিন আলম ওই বাজারের শাহিন টেলিকম নামের একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানের মালিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহিন আলম দীর্ঘদিন ধরে পাকেরহাট বাজারে মোবাইল মেরামতের কাজ করে আসছেন। তবে তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন মৌখিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি ‘হক প্রকাশ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ফাঁস করার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা সামনে আসে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ১৭ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহিন আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পুলিশ একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। তার ফোনে ১০ থেকে ১১টি ফেসবুক আইডি লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনার ভুক্তভোগী স্থানীয় সাংবাদিক মো. সুজন শেখ জানান, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে নষ্ট হলে সেটি শাহিন আলমের দোকানে মেরামতের জন্য দেওয়া হয়।
দুইদিনের মধ্যে মেরামত করার কথা থাকলেও শাহিন তা নির্ধারিত সময়ে দেননি। এরই মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ‘হক প্রকাশ’ নামের আইডি থেকে সুজন শেখের মেসেঞ্জারে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে, তার ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ওই চক্রের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই আইডি থেকে ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করা হলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোবাইল মেরামতের সময় শাহিন আলম সুকৌশলে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ‘হক প্রকাশ’ আইডির নিয়ন্ত্রকদের সরবরাহ করেন।
অভিযুক্ত শাহিন আলম শুধু তথ্য সরবরাহ নয়, বরং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট তৈরিতেও সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সাইবার অপরাধের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাসেত সর্দার জানান, ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শাহিন আলমের মোবাইল ফোনে একাধিক ফেসবুক আইডি ও স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ায় তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ইতিমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, ‘হক প্রকাশ’ আইডির মূল নিয়ন্ত্রক এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন