বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

আল ফালাহ আম উন্নয়ন সংস্থার নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৭, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

আল ফালাহ আম উন্নয়ন সংস্থার নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর আল ফালাহ আম উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজুল ইসলামসহ ১০ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের এবং পুলিশি অপতৎপরতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী।গতকাল রোববার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আলহাজ আব্দুল মান্নান সরকার। 

এ সময় আলহাজ আনোয়ার হোসেন, আলহাজ এশার আলী, মো. তমিজ উদ্দীন, শাহিনুর আলম, তসলিম উদ্দীনসহ রাজবাটী এলাকার বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাজবাটীতে অবস্থিত আল ফালাহ আম উন্নয়ন সংস্থা, গত ১৯৮৯ সালে উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য যথাক্রমে মো. মমতাজুল ইসলাম, মো. বদিউল আলম পাটোয়ারী, মো. আনিসুর রহমান, মো. এশার আলী ও মো. তমিজ উদ্দীন এই ৫ জনে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। হাটি হাটি পা পা করে সংস্থাটি বর্তমানে এই অবস্থানে এসেছে। শুরু হয় প্রতিষ্ঠানে সুসময়ের সুযোগসন্ধানী বন্ধুদের আগমন। 

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অসহায় গরিবদের সাহায্য দানের কারণে আমরা এলাকাবাসী খুব সন্তুষ্ট।গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, কতিপয় সুবিধাভোগী সুকৌশলে সংগঠনের কমিটিতে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মো. মমতাজুল ইসলামকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে তাদের মনোপূত ব্যক্তিকে ওই চেয়ারে বসাবেন। মমতাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা সব বিষয়ে ইতিপূর্বে সুষ্ঠু সমাধান হলেও পুনরায় ওই স্বার্থসন্ধানী মহল তাঁকে এবং সকল প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। 

তারই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় আল ফালাহ উন্নয়ন সংস্থা দিনাজপুরে প্রধান ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয়ে এসএম মামুন উর রশিদ, (সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় গত ১৮/০৮/২০১৪ সালে অসদাচরণের দায়ে পদাবনতিপ্রাপ্ত হন) দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংস্থায় আসেন এবং তাকে কমিটি জোর করে দায়িত্ব দিয়েছে, সেজন্য তিনি দায়িত্ব পালন করবেন না বলে লিখিত দিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে কোতোয়ালি থানার এসআই মনিরুজ্জামান (লিখন) সঙ্গে এসআই রতনসহ সংস্থার সম্মুখে আসেন এবং এসএম মামুন উর রশিদকে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। অতঃপর কমিটির সদস্য তৈমুল ইসলাম, তাইবুর রহমান ও তাহেরা বেগম গংদের ডেকে আনেন। এসআই মনিরুজ্জামান সংস্থার অফিস কক্ষে উপস্থিত এলাকাবাসীসহ সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। 

মনিরুজ্জামান সাহেব উপস্থিত সকলের সামনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করতে আসা এসএম মামুন উর রশিদকে প্রশ্ন করেন যে, তোমাকে কেউ বাধা দিয়েছে কি না? উত্তরে তিনি বাধা দেন নাই বলেন এবং একটি কাগজে তিনি লিখিত দিয়ে চলে যাচ্ছিলেন বলে জানান। অথচ এসআই মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ওসি সাহেব মামলা করতে বলেছেন এবং এক্ষুনি গিয়ে একটি জিডি করে মামলা করে সবাইকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চলে যান। থানার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মিটিংয়ে চাঁদাবাজির কোনো কথাও উত্থাপিত হয়নি।

পরের দিন আমরা জানতে পারলাম, সভায় উপস্থিত ২ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যসহ ১০ জনের নামে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজুল ইসলামকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। পুলিশ শুধু মামলা নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা পরের দিন সংস্থার তালা ভেঙে এসএম মামুন উর রশিদ গংদেরকে অফিসে ঢুকিয়ে দিলেন। আমরা পুলিশি অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানাচ্ছি।