জুন ৩, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
রসালো ও সুস্বাদু মৌসুমি ফল হিসেবে ফলের বাজারে চিরকালই দিনাজপুরের উন্নতমানের লিচুর এক আলাদা কদর ও বিপুল চাহিদা রয়েছে। তবে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লিচুর বাজারে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রেকর্ড দাম দেখা গেছে।
বিশেষ করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় চায়না-৩ জাতের লিচু স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি পিস ১০ থেকে ১১ টাকা উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।মৌসুমি ফলের উৎপাদন হ্রাস এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের এই বিরূপ প্রভাব সরাসরি প্রান্তিক ভোক্তা ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।
ফলস্বরূপ মাত্র একশত লিচু কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট থেকে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত যা মধ্যবিত্তের সাধ্যের সম্পূর্ণ বাইরে চলে গেছে।
চাষি ও স্থানীয় বড় ব্যবসায়ীরা জানান যে চলতি মৌসুমের শুরুতে কয়েক দফা তীব্র শিলাবৃষ্টি এবং চরম বৈরী আবহাওয়ার কারণে লিচুর অসংখ্য কচি গুটি অকালে ঝরে পড়েছিল। প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ায় এবং বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বাগান পর্যায় থেকেই এবার লিচু অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাগান মালিকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সরবরাহ করা এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের বড় দাবি।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান যে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে ১৩০টি বাগানে ছোট-বড় পরিসরে লিচুর চাষ সম্পন্ন হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন যে মাঠকর্মীরা নিয়মিত বাগান মালিকদের বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকখানি কমাতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছর সুস্বাদু বেদানা লিচুসহ কয়েকটি বিশেষ জাত বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন