জুন ১৮, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগঠন নবরূপীর উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করা হয়েছে। এই বিশেষ উৎসব উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের নিজস্ব মিলনায়তনে এক গুরুত্ববহ আলোচনাসভা, কবিতা আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
বাংলা সাহিত্যের দুই কালজয়ী শ্রেষ্ঠ কবির অবিনাশী সৃষ্টিকে স্মরণ করতেই মূলত এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন।নবরূপীর সহ-সভাপতি মো. নাজমুল হকের সভাপতিত্বে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নবরূপীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান নিউ। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মানস কুমার ভট্টাচার্য।
এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে কবিদ্বয়ের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক রোখশানা বিলকিস এবং দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহাজাহান সাজু। আমন্ত্রিত বক্তারা তাঁদের আলোচনায় বাংলা সাহিত্যে এই দুই প্রধান কবির অবিস্মরণীয় অবদান এবং বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাঁদের অসাম্প্রদায়িক দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা বিশদভাবে তুলে ধরেন।
সংগঠনের সংগীত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফরহাদ আহমেদের সুনিপুণ পরিচালনায় স্থানীয় শিল্পীরা অনুষ্ঠানে কবিদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরচিত ও নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট কবি ও গবেষক মো. জোবায়ের আলী জুয়েল, নাট্য সম্পাদক মো. শামীম রাজা, সুবর্ণা মুখার্জী এবং সাহিত্য ও পাঠাগার সম্পাদক চিকিৎসক খাদিজা নাহিদ ইভা। আলোচনাসভায় বক্তারা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রকৃত চর্চা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই দুই মহান সাম্যবাদী কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাঙালি জাতির মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে বলে সকলে যৌথ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন