জুলাই ১৬, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
দিনাজপুরের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও হেমায়েত আলী পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ মো. হেমায়েত আলীর স্মরণে সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিনাজপুর লেখক ফোরামের সহযোগিতায় লাইব্রেরি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।দিনাজপুর লেখক ফোরামের সভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত হেমায়েত আলীর পুত্র, সাবেক যুগ্ম সচিব ও বিশিষ্ট লেখক মুহাম্মদ জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে হেমায়েত আলীর কর্মময় জীবন ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা স্মরণ করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হেমায়েত আলী পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান মো. মিজানুর রহমান ডাব্লু। সাহিত্য আসরে প্রবন্ধ পাঠ, কবিতা আবৃত্তি এবং সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রয়াত ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আলোচনায় অংশ নেন দিনাজপুর লেখক ফোরামের উপদেষ্টা অধ্যাপক জলিল আহমেদ, অধ্যাপক কামরুজ্জামান গোপন, কবি মো. লুৎফর রহমান, দৈনিক উত্তর বাংলা নির্বাহী সম্পাদক জিন্নাত রহমান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রকৌশলী মো. নূরে আলম তুষার, কবি মাসুদ মোস্তাফিজ, বিরল মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুফিয়া নাহার মঞ্জু এবং দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কবি নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ জুলফিকার আলী বলেন, আমার বাবা কবি ও সাহিত্যিকদের ভীষণ পছন্দ করতেন। নতুন লেখকদের প্রতি তিনি সর্বদা উৎসাহী ছিলেন। কোনো লেখকের লেখা দুর্বল হলেও তিনি তা ‘নওবেरोज’ পত্রিকায় প্রকাশের সুযোগ করে দিতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নতুনদের সুযোগ না দিলে সাহিত্যের ধারা এগিয়ে যাবে না। ১৯৪১ সালে প্রথম প্রকাশিত ‘নওবেरोज’ পত্রিকার শুরুর সংখ্যা থেকেই তিনি তরুণ লেখকদের লেখা প্রকাশ করে আসছিলেন।তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কবির সংখ্যা বেড়েছে, সেই সাথে লেখার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে অনেক লেখার মধ্যেই দুর্বলতা রয়েছে। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে প্রত্যেক কবি ও সাহিত্যিককে শক্তিশালী লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। এমনভাবে লিখতে হবে যেন সেই লেখা জাতিকে পথ দেখাতে পারে। সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য ঘরে ঘরে সাহিত্য আসর হওয়া জরুরি।অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি বিধান দত্ত, ইয়াসমিন আরা রুবি, অদিতি রায়, পপি হাসনাক, মাসুদা খাতুন, ফাতেমা বেগম, মিনা সুলতানা, নুরুজ ইসলাম, রবিউল আউয়াল রবি, মাজেদ উদ্দিন, রাকিবুল রহমান পায়েলসহ অনেকে। সংগীত পরিবেশন করেন মামুনুর রশীদ জুয়েল, রিতা হেমগিরি ও সারাবন তহুরা মৌসুমি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন