জাহিদ হাসান
অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রীড়া ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সবার সামনে তুলে ধরতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো আদিবাসী ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ঐতিহ্যবাহী তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা-২০২৬। রনগাঁও ভাদুরিয়া আদিবাসী কমিটির সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্রীড়া উৎসবে অংশ নেন এলাকার বহু প্রতিযোগী ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম। রনগাঁও ভাদুরিয়া আদিবাসী আয়োজক কমিটির সভাপতি তরুণ কিস্কুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সুজালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ মাস্টার।
ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, আদিবাসী সম্প্রদায় বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা, সাংস্কৃতিক ধারা, ঐতিহ্য এবং খেলাধুলার নানা রূপ আমাদের সামগ্রিক জাতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় করেছে। এই ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং তরুণ প্রজন্মের সামনে সঠিকভাবে পরিচিত করাতে এ ধরনের তৃণমূল প্রতিযোগিতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন, ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর সব কৃত্রিম বিভেদ ভুলে গিয়ে সবাইকে ঐক্য, সম্প্রীতি ও গভীর সৌহার্দ্যের বন্ধনে অটুট থাকতে হবে। এলাকার প্রতিটি নাগরিক ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা এবং স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে একযোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু।
এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, দিনাজপুর আদিবাসী চেয়ারম্যান লুকাস সরেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আকাশ, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে আলম শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলিমুদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাহাজাহান সিরাজ শিপনসহ এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণকারী আদিবাসী ফুটবলার ও তীরন্দাজরা তাদের নিজস্ব ক্রীড়াশৈলী ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও নিজস্ব সাজে সজ্জিত দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি স্থানীয় আদিবাসী সমাজের মাঝে বিপুল উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেয় এবং এটি তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলায় রূপ নেয়।