শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে প্রাণদাসের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: পিবিআই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

বীরগঞ্জে প্রাণদাসের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: পিবিআই

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ডাকেশ্বরী গ্রামের প্রাণ দাস (২৫)-এর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুর পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগীর মা সারতী রাণী দাস (৫৪) পিবিআইকে জানান, তার ছেলেকে হত্যা করা হলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।ঘটনার প্রেক্ষাপট: তদন্তে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল প্রাণ দাসের শ্বশুরবাড়ি খুজরবাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তখন শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করে, তিনি ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে বীরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা (নং-১৭) রুজু হয়।

কিন্তু ভুক্তভোগীর মা সারতী রাণী দাস গত ৩১ জুলাই পিবিআই, দিনাজপুরে হাজির হয়ে অভিযোগ করেন, "আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলে সে বিষ খেয়েছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না।"পিবিআই’র তদন্ত: অসহায় ওই মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পিবিআই’র একটি দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তে প্রমাণিত হয়, প্রাণদাস আত্মহত্যা করেননি; তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হয়।

তদন্তে উদঘাটিত হয়, ভুক্তভোগীর শ্যালক দিপু রায় (২২), স্ত্রী পূজা রাণী দাস (১৯), শাশুড়ি জোসনা রাণী (৪৫) এবং শ্বশুর নিপেন্দ্র নাথ রায় (৫০) সম্মিলিতভাবে প্রাণ দাসকে হত্যা করেন।গত ২০ অক্টোবর সারতী রাণী দাস বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করলে পিবিআই একই দিন চার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।স্বীকারোক্তি ও আলামত উদ্ধার: অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ আরও জানান, আদালতের অনুমতিক্রমে আসামি দিপু রায় এবং পূজা রাণী দাসকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে।

দিপু রায়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর তার শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইট তৈরির ফার্মা ও খাট জব্দ করা হয়। দিপু রায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, "আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি, প্রাণ দাসকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সত্য উদঘাটনে পিবিআই সফল হয়েছে।"