ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের মালিকানা ব্যক্তিখাতে ছেড়ে দেওয়া হবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সাথে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার বিষয়ে যে আলোচনা চলছিল তার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে ব্যারিস্টার আরমান সাংবাদিকদের জানান বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নগদের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত নীতি এখনও নির্ধারিত হয়নি।
যদি সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মতো এটি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবেই বিনিয়োগের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্য হিসেবে নয় বরং একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি ডেল মাইক্রোসফট অ্যাপল ও উবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।ব্যারিস্টার আরমান জানান সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি মূলত বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে আগ্রহী এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।
বিনিয়োগটি কতটা লাভজনক হবে তা যাচাই করার জন্য তারা নগদের ওপর একটি বিস্তারিত অডিট পরিচালনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এই বিষয়ে গভর্নরকে অবহিত করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সংসদ সদস্য হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করা কোনো স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করবে না কারণ তিনি একজন উদ্যোক্তা পরিবারের সদস্য হিসেবেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছেন এবং পেশাগত দায়িত্ব হিসেবেই আইন চর্চা করছেন। তিনি মনে করেন রাজনীতি জনগণের সেবার জন্য এবং পেশা জীবন ধারণের জন্য আলাদা বিষয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে নতুন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ব্যাংক খাত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তরিক বলে বৈঠকে আলোচনা করা হয়। মূলত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পেলেই নগদের মালিকানা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি ও দাপ্তরিক কার্যক্রম গতি পাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন