বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

বাজার থেকে আবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

বাজার থেকে আবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়

বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে পুনরায় ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ দেড় মাস বিরতির পর গতকাল বুধবার একটি ব্যাংক থেকে ৭ কোটি ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে গত ২ মার্চ সর্বশেষ দুটি ব্যাংক থেকে আড়াই কোটি ডলার কিনেছিল সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার কেনা ৭ কোটি ডলারের প্রতি ইউনিটের মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। 

সর্বশেষ বাজারে ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে গত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাজার থেকে সব মিলিয়ে ৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার বা ৫৫৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দামের অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতেই এই হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক ব্যাংক ডলারের দাম ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বকেয়া দেনা পরিশোধ শুরু করে। এর ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা ও দাম কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে ডলার কেনা থেকে সাময়িকভাবে বিরত ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ওপর বকেয়া পরিশোধের বাড়তি চাপ না থাকায় এবং পর্যাপ্ত ডলারের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় আবারও কেনা শুরু হয়েছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৭৮১ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

বাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনায় তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো থেকে রেমিট্যান্স কেনার সর্বোচ্চ দর ১২২ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকালে ডলারের একটি রেফারেন্স রেট প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার মাধ্যমে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

ডলার কেনা এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বর্তমানে বেশি। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই ব্যাংক থেকে ডলার কেনা হচ্ছে। এতে বাজারের ভারসাম্য বজায় থাকার পাশাপাশি দেশের রিজার্ভও সমৃদ্ধ হচ্ছে।