বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

কমলো তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

কমলো তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

তেলের বাজারে নতুন দর

আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আশাবাদ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী করপোরেট আয়ের খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। 

বৈশ্বিক অর্থনীতির এই ইতিবাচক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দিনের শুরুতে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ৫৫ সেন্টে নেমে আসে। মূলত পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই তেলের বাজারে দরপতন ঘটে। 

তবে দিনের পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসার পর সরবরাহ সংকটের শঙ্কায় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার ২৩ সেন্টে স্থির হয়।তেলের বাজারে স্বস্তির পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও আজ ব্যাপক চাঙা ভাব দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই প্রারম্ভিক লেনদেনে ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে নতুন এক ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছে। জাপানের বাইরে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ার সূচকও আজ শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে যা টানা তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী ধারার প্রমাণ দেয়। 

মার্কিন ওয়াল স্ট্রিটের ইতিবাচক প্রভাবও এশীয় বাজারগুলোতে স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে যেখানে ব্যাংক অব আমেরিকা ও মর্গান স্ট্যানলির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতির অবসান হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। 

বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ বড় কোম্পানি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারকে আরও শক্তিশালী করছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আগামী কয়েক দিনে তেলের দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য তা বড় সুসংবাদ নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।