জুন ১৯, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম
বিশ্ববাজারে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গেছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৪ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম l ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ১৯২ দশমিক ৮০ ডলারে এসে ঠেকেছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের কাছে ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস জানান যে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় থাকায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর বড় ধরণের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকিও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পূর্বাভাসে চলতি বছর আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোল্ডম্যান স্যাকস আগামী ডিসেম্বরের জন্য স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি সামগ্রিক বাজার নিয়ে ইতিবাচক রয়েছে।অন্য দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরণের দরপতন হলেও বাংলাদেশের দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বর্তমানে সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা এবং ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার বা ১৪৮ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর পরপরই স্বর্ণের মূল্যের ওপর এই বিশ্বব্যাপী নতুন চাপ তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছালেও সবশেষ গত ১২ জুন তা ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে আসে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন