নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৩:৪৫ পিএম
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উল্লাস করছে। ঐতিহাসিক এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রস্থল টিএসসিতে (শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র) মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
রায় ঘোষণার পরপরই টিএসসি চত্বরে উৎসবের আমেজ নেমে আসে, যেখানে শত শত শিক্ষার্থী এই রায়কে গণঅভ্যুত্থানের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে আনন্দ প্রকাশ করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনাকে মোট তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তাকে দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হলো আজ। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যা, চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় একজনকে জীবন্তসহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ।
এই মামলায় আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, আহত ব্যক্তি ও চিকিৎসকসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এছাড়া শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও-ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও জব্দ করা গুলি আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তেইশে অক্টোবর এ মামলার যুক্তি-তর্ক শেষ হয়। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই-আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন