বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হাবিপ্রবিতে সাদামাটা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

মোঃ রাহাত হোসেন

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

হাবিপ্রবিতে সাদামাটা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সাদামাটা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বুধবার ৮ এপ্রিল কোনো ধরনের জাঁকজমক ছাড়াই এই দিনটি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এই বিশেষ দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আশানুরূপ না হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো কম। বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটের হাতেগোনা কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি শুধুমাত্র শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে দিবসটি পালিত হয়। 

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই অনুপস্থিতিকে হতাশাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে ঘিরে ক্যাম্পাসে কোনো উল্লেখযোগ্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি। তারা বলছেন, এই উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা আন্তঃবিভাগ প্রীতি ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা যেত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধুমাত্র প্রাতাগত কেক কাটা এবং একটি ছোট র‍্যালির মাধ্যমেই কর্মসূচির ইতি টেনেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এমন দায়সারা আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে, একটি স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন এত নিরুত্তাপ হতে পারে তা অভাবনীয়। তার দাবি, অনেক সাধারণ কলেজেও এর চেয়ে বেশি জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালিত হয়। মূলত কোনো বিশেষ আকর্ষণ না থাকায় শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ছাত্র রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতা মেহেদী হাসান এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রজত জয়ন্তীর মতো একটি প্রত্যাশিত উৎসবের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন রেখে এমন কর্মসূচি নেওয়া হাস্যকর। তার মতে, এ ধরনের দায়সারা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম এমদাদুল হাসান নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসটি সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ছিল এবং তারা আশা করেছিলেন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেবে। অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি থাকলে আয়োজনটি আরও সুন্দর হতো বলে তিনি মনে করেন।

আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা আলোকসজ্জা না করার কারণ হিসেবে তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে তারা এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।