এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট এবং রাজধানীর তীব্র যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশের কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বিত বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সব স্কুলে একযোগে নয় বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি ট্রাফিক চাপ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেমিনারটি মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের বড় বড় সংকটই নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থবির না রেখে প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। সামনের দিনগুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও কাগজবিহীন হয়ে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।প্রস্তাবিত এই হাইব্রিড মডেলটি কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে ড. মিলন জানান, সক্ষমতা থাকা স্কুলগুলোতে সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্কুলে এসে ক্লাস করবে এবং বাকি দিনগুলোতে বাড়িতে বসে অনলাইনে পাঠ গ্রহণ করবে।
এতে রাস্তায় যানবাহনের চাপ যেমন কমবে, তেমনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তবে অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নজরদারির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। সরকার ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনকে একটি দূরদর্শী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো পৃথিবী একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বিচক্ষণতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই হাইব্রিড ক্লাস পদ্ধতির বিস্তারিত কাঠামো এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত রোডম্যাপ জানাবেন। এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য সক্ষম স্কুলগুলোতে এই পদ্ধতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন