রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মশাবাহিত বিরল রোগে প্রাণ হারালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৮, ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

মশাবাহিত বিরল রোগে প্রাণ হারালেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

প্রয়াত অধ্যাপক ড. জুথি

প্রয়াত অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির একটি মার্জিত ও হাস্যোজ্জ্বল ছবি, যার একপাশে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) লোগো অথবা প্রশাসনিক ভবনের আবছা জলছাপ থাকবে। ছবির নিচের দিকে কালো বর্ডারে শোকবার্তা লেখা থাকতে পারে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি মশাবাহিত বিরল রোগ জাপানিজ এনসেফালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। 

গত ৪ মে সামান্য জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে ভাইরাসের আক্রমণে তাঁর মস্তিষ্কে মাল্টিপল স্ট্রোক হয়েছিল যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। মেধাবী এই গবেষকের এমন চলে যাওয়ায় চট্টগ্রামে নতুন করে স্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গত ৪ মে ড. জুথি সামান্য জ্বর এবং প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান হাসপাতালে ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা মাল্টিপল স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটে এবং পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড ঘোষণা করেন। 

আইসিইউ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ধারণা ড. জুথি কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ানো জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এই ভাইরাস সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্কে আঘাত করে যার ফলে রোগীর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি থাকে। ড. জুথির ক্ষেত্রেও ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণে ব্রেন স্ট্রোক হয় বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা পুরো শিক্ষা অঙ্গন ও সাধারণ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। 

সম্প্রতি তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক শেষ করে দেশে ফিরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সিভাসুর অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। তাঁর স্বামী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্নব। ৫ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে যাওয়া এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুতে সিভাসু উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।